জুলাই ভিকটিমস অ্যাসোসিয়েশনজুলাই ভিকটিমস অ্যাসোসিয়েশন

প্রতিষ্ঠাতার বাণী

জুলাই আমাদের কাছে শুধু একটি মাসের নাম নয়, জুলাই একটি ইতিহাস, একটি আত্মত্যাগ, একটি জাগরণ এবং একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন।

জুলাইকে বুঝতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে জুলাইয়ের আগের দীর্ঘ সময়ের দিকে। সেই সময়ে মানুষের গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর সংকট ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল। গুম, নিখোঁজ, হত্যা, নির্যাতন, মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের নানা অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা সেই সময়ের বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছিল।

এই দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, তাদের নেতাকর্মী, ছাত্র-তরুণ এবং সাধারণ মানুষ অধিকার, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের অবস্থান থেকে সংগ্রাম করে আসছিলেন। সেই ধারাবাহিকতার এক ঐতিহাসিক পরিণতি হিসেবে জুলাই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

জুলাইয়ের রাজপথে মানুষ সাহস ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কেউ জীবন দিয়েছেন, কেউ আহত হয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, কেউ চোখ বা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারিয়েছেন। অসংখ্য পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জন। জুলাইয়ের সেই দিনগুলোর শারীরিক ও মানসিক ক্ষত আজও বহু মানুষ বয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রতিটি শহীদের একটি গল্প আছে।

প্রতিটি আহত যোদ্ধার একটি ইতিহাস আছে।

প্রতিটি পরিবারের একটি বেদনা আছে।

এবং প্রতিটি আত্মত্যাগের রয়েছে একটি মূল্য।

এই গল্প, ইতিহাস, স্মৃতি ও আত্মত্যাগ যেন হারিয়ে না যায় এই অঙ্গীকার থেকেই জুলাই ভিকটিমস এসোসিয়েশন (জেভিএ) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেভিএ-এর উদ্দেশ্য শুধু জুলাই ২০২৪ এর ঘটনাগুলোকে নথিবদ্ধ করা নয় বরং জুলাইয়ের পূর্ববর্তী বাস্তবতা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা, মানুষের আত্মত্যাগ এবং জুলাই পরবর্তী চাওয়া-পাওয়া ও আকাঙ্ক্ষা এই সম্পূর্ণ ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা।

জুলাইয়ের পরও মানুষের প্রত্যাশা ও অধিকারের সংগ্রাম শেষ হয়ে যায়নি। শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, আহত ও পঙ্গু জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, জুলাইয়ের সত্য ও ইতিহাস সংরক্ষণ করা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা এসবই জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা।

একই সঙ্গে মানুষের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, আইনের শাসন এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষাকেও সামনে এগিয়ে নেওয়া জরুরি। যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের স্বৈরাচার, নিপীড়ন ও অন্যায় মানুষের অধিকারকে আর উপেক্ষা করতে না পারে।

আমরা বিশ্বাস করি, জুলাই কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের ইতিহাস নয়, জুলাই একটি সম্মিলিত ইতিহাস। এটি ছাত্র-তরুণ, রাজনৈতিক কর্মী, সাধারণ মানুষ, শহীদ, আহত ও পঙ্গু যোদ্ধা, শহীদ পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শী সবার ইতিহাস, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন।

আমরা জুলাইকে ভুলতে দেব না।

আমরা জুলাইয়ের সত্যকে হারিয়ে যেতে দেব না।

আমরা প্রতিটি শহীদের গল্প সংরক্ষণ করব।

আমরা প্রতিটি আহত জুলাই যোদ্ধার ইতিহাস তুলে ধরব।

এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জন্ম নেওয়া একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন ও ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেব।

জুলাইয়ের স্মৃতি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, জুলাইয়ের গল্প প্রচার ও প্রসার।


মোঃ সোহাগ মাহমুদ

প্রতিষ্ঠাতা

জুলাই ভিকটিমস এসোসিয়েশন (জেভিএ)