যোদ্ধার প্রোফাইল

মোঃ লিটন
- ক্যাটাগরি
- ক্যাটাগরি-এ
- নাম
- মোঃ লিটন
- বয়স
- 52 বছর
- পেশা
- অসুস্ত
- এমআইএস নাম্বার
- 14583
- গ্যাজেট নাম্বার
- 709
- নিজ জেলা
- মায়মনসিংহ
- ঘটনাস্থল
- সাভার, ঢাকা।
যোদ্ধার গল্প
২০২৪ সাল
জুলাই মাস ঢাকা শহরে
কোটা আন্দোলন শুরু হয়েছে।
দেখতে
দেখতে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ইউনিভার্সিটিতে আস্তে আস্তে শুরু হয়েছে। আমি
ঢাকা জেলা সাভার উপজেলা
গার্মেন্টসের দোকান ব্যবসা করি। আস্তে আস্তে
সাভার উপজেলাও মিছিল মাঝে মাঝে হচ্ছে।
আমার কোন ইনড্রয়েড মোবাইল
সেট ছিল না তাই
দোকানের ইউটিউব ফেসবুক দেখতাম। ১৬ জুলাই আবু
সায়েদ যখন মারা যায়
তখন আমরা প্রতিবাদ জানাই।
এরপরে দেখি আস্তে আস্তে
পুলিশ যুবলীগ ছাত্রলী আওয়ামী লীগ লাঠি নিয়ে
মহড়া শুরু করছে এবং
আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছে। যারা
মিছিল যাবে তারা কেহ
ব্যবসা করতে পারবে না
তাদেরকে মেরে ফেলবো। ১৬
জুলাই থেকে আমরা গোপনীয়
ভাবে এবং সন্ধ্যার পরে
আস্তে আস্তে প্রতিবাদ শুরু করি এবং
আমাদের সঙ্গে মোটামুটি অনেক ব্যবসায়ী শ্রমিক
কর্মচারী হকার যোগ দেওয়া
শুরু করেন। আমরা রাত্রে বেশিরভাগ
বাসায় যেতেপারতাম না পুলিশ এবং
ছাত্রলীগ নেতা কর্মীর কারণে।
১৯জুলাই আমরা সাভার বড়
আন্দোলন করি আমার মনে
হয় দিনটা ছিল শুক্রবার। ২০জুলাই
সকাল দশটায় আমরা রানা প্লাজার
সামনে দাওয়া পাল্টা দাওয়া শুরুকরে আমরা এগিয়ে যাই
আবার পিছে আসি। এভাবে
চলতাছে পুলিশ তখন ডাইরেক্ট গুলি
চালাইতাছে হঠাৎ করে আনুমানিক
সময় দুপুর ২ টা আমার
বাম হাতের কনুর মধ্যে স্প্লেন্ডার
আমার বাম হাতে লাগে।
সঙ্গে সঙ্গে আমি রাস্তায় লুটায়া
পরি কিন্তু পুলিশ কেমন ভাবে গুলি
চালাচ্ছে আমাকে নেবার মতন কোনো উপায়
পাচ্ছে না। আমি মরার
বান করে পড়ে আছি
আমাকে কয়েকটা ভোট দিয়ে লাথি
দিয়া বলে ও ডেট
চলো। পুলিশ যাওয়ার পরে মাদ্রাসা কয়েকটা
ছাত্র আমাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় তারপর ওরা
দেখে আমি মারা যায়
নাই। তখন তারা অনেক
সিস্টেম কইরা সাভার এনাম মেডিকেলে নিয়ে
যায়। সেখানে আমাকে কোন অপারেশন করতে
দেয় নাই পুলিশে শুধু
ডাক্তার কে বলে হাতটা
শুধু ব্যান্ডেজ করে রাখেন। তখন
ডাক্তার বলছিল ওর হাতে কিমপক্ষে
দুইশত স্প্লেন্ডার
আছে যদি এখন বাহির
না করি তাহলে ভবিষ্যতেতার
হাতটা অচল হয়ে যাবে।
তখন পুলিশ বলল বেঁচে থাকলে
তো, আমি শুধু আল্লাহ
আল্লাহ করি। যখন জানতে পারলাম পুলিশ আমাকে নিয়ে যাবে ক্রসফায়ার দেওয়ার
জন্য তখন আল্লার এছাড়া
কোনো উপায় ছিল না। ২০
তারিখ সারারাত আল্লাহ আল্লাহ করে কাটালাম। ২১
তারিখ সকাল বেলা আমার
ওয়াইফ বলল মেডিক্যাল থেকে
পলাইয়া যাওয়ার সিস্টেম নাই। আমি বললাম
ধৈর্য ধর আল্লামা চাইলে
মারবে কে, এভাবে সারাদিন
চলে গেল। ২২জুলাই সকাল
বেলা মেডিকেলের একজন কর্মচারী আমাকে
বলল আজকে রাতে আপনাকে
থানায় নিয়ে যাবে আপনি মেডিকেলের
বিল পরিশোধ করিয়া পালিয়ে জান। আমি রাস্তা
দেখাইয়া দিব। আমার ওয়াইফ পাঠাইলাম দেখতে কয় টাকা দিলে
এসেসে বলল ৩৪০০হাজার টাকা।
হাতে নেই কোন টাকা
কি করি। আমার ওয়াইফ এক
বাসায় গেল বাসা থেকে
ম্যানেজ করে ২২০০ হাজার টাকা
আনছে। বাকি টাকা আর
যোগাড় করতে পারে না।
এদিকে দুপুর হয়ে গেছে তখন
ভাই বলল আপনার এখনো
যান নাই। আপনাকে আর
বাঁচাইতে পারলাম না। তখন আমার
ওয়াইফ তার অলংকার রেখে
আরো কিছু টাকা জোগাড়
করলে এভাবে দুইটার দিকে আমি মেডিকেল
থেকে কিভাবে বাইর হলাম একমাত্র
আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে
না। এখনো সেই স্মৃতিগুলো
মনে পড়লে শুধু চোখ দিয়ে
পানি আসে। ২২ জুলাই বাসায়
গেলাম এক ফোটা ঘুমাইতে
পারি না। পুলিশের গাড়ির
শব্দ পাই মনে হয়
পুলিশ আমাকে ধরতে আসছে। জানালায় তাকায় থাকি। যখন আমার শরীর
অবস্থা আরো খারাপ হয়ে
যাচ্ছে দিন দিন তখন
আমি সাভার থেকে পালিয়ে যাই।
কারণ তখন সাভার পুলিশ
আমাকে খুঁজে বেড়ায়। তখন বাঁচার জন্য
আমি আমার গ্রামের বাড়ি
ময়মনসিং চলে যাই। যাওয়ার
সময় অনেক কষ্ট করে
গেছি। গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরে আমের ডাক্তারের
সহযোগিত হাতে ব্যথাটা কমাইতে
সক্ষম হয়। আমি এলাকার
আমরা সাবেক ছাত্রদলের বন্ধুবান্ধব সব একসঙ্গে হয়ে
১ আগস্ট থেকে আমাদের এলাকার
আন্দোলন জোরদার করার চেষ্টা করি।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর
পর পর আমরা মিছিল
নিয়ে নান্দাইল সদর চলে আসি।
৬ তারিখ ঢাকা আসলাম তখন আর দোকানে
কোন খোজ খবর নাই।
আমার দোকানটা এবং দোকানের মালামাল
কে বা কাহারা নিচে
কেউ বলতে পারে না।
বর্তমানে আমার বাম হাতের
টোটাল পাঁচটা রগ
নষ্ট হইয়া গেছে। সে হাত দিয়ে
কোন কাজ করতে পারি
না। তারপরে মনে হয় আমি
খুবই সুখী কারন স্বৈরাচারের পতন হয়েছ।
ছবি






