যোদ্ধার প্রোফাইল

মোঃ সাগর মিয়া
- ক্যাটাগরি
- ক্যাটাগরি-এ
- নাম
- মোঃ সাগর মিয়া
- বয়স
- 30 বছর
- পেশা
- চাকুরী
- এমআইএস নাম্বার
- 7813
- গ্যাজেট নাম্বার
- 246
- নিজ জেলা
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- ঘটনাস্থল
- ভাটারা, ঢাকা।
যোদ্ধার গল্প
আমার নাম মোঃ সাগর মিয়া। আমি একটি গাড়ির মেকানিক এর কাজ করতাম।
ভাটারা মাদানী এভিনিউ ১০০ ফিট রোড এ তো কাজ করা অবস্থায় ১৭ জুলাই ২০২৪ সালে আমি দেখি বেসরকারি ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা আন্দোলন নিয়ে ভাটারা থানার সামনে দিকে যাচ্ছে তো সেই আন্দোলন দেখে আমি কাজকাম রেখে তাদের সাথে আন্দোলনে যুক্ত হই। এবং তাদের সাথে আন্দোলন করতে করতে আমি মধ্য বাড্ডা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সামনে পর্যন্ত চলে যাই। তখন সেইখানে পুলিশ ছাত্রদেরকে লক্ষ্য করে টিয়ারশেল রাবার বুলেট এবং চাইনিজ রাইফেল দিয়ে গুলি করছিল। তখন আমি এবং আমার সাথে আরো অন্য ছাত্ররা ছিল তারা সবাই মিলে আমরা কয়েকজন ছাত্রকে উদ্ধার করে এ এম জেট হসপিটাল উত্তর বাড্ডা ওইখানে নিয়ে ভর্তি করি। এবং আবার আন্দোলনে এসে যোগ দেই। তখন পুলিশে আমাদেরকে ধাওয়া দিলে আমরাও পুলিশকে ধাওয়া দেই তারপর শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় একপর্যায়ে আমি বাসায় চলে যাই। বাসায় গিয়ে রেস্ট নিয়ে পরের দিন আবার কাজে চলে যাই। তারপর আবার উনিশে জুলাই শুক্রবার ১১ টার দিকে শাহজাদপুর বাঁশতলা আবার ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে যোগ দেই। সেই সময় পুলিশ ছাত্রদেরকে লক্ষ্য করে এবং সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে ডাইরেক্ট রাইফেল দিয়ে গুলি করছিল। সেই সময় আমার চোখের সামনে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের শরীরে গুলি লাগে প্রায় 15-20 জনের মত স্পট ডেট। কারো মাথায় কারো মুখে কারো গলায় কারো বুকে তখন আবার সেইখান থেকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে আমি ভিতরের এক গলি দিয়ে আমার বাসায় চলে যাই ওইখান থেকে খাওয়া-দাওয়া করে গোসল করে জুম্মার নামাজ পড়ে আবার আমি ভাটারা থানার সামনে আন্দোলনে যোগ দেই। সেই সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া পুলিশ এবং আমাদের মাঝে হয় সেই সময় পুলিশ আমাকে লক্ষ্য করে শটগান দিয়ে গুলি করে। সেই শট গানের গুলি আমার চোখে এবং মুখের বিভিন্ন স্থানে লাগে। তখন থেকে আমি আমার বাম চোখ দিয়ে দেখতে পাই না। এবং আমার ডান চোখেও আঘাত লাগে আল্লাহর রহমতে আমার ডান চোখের ক্ষতি হয় নাই। কিন্তু আমার বাম চোখ কি চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে। আহত হওয়ার পরে তখন আমি আমার এক চোখ ধরে আরেক চোখ দিয়ে হালকা দেখি তখন আমি আমার পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়েছি যে আমার চোখে গুলি লেগেছে। আমাদের এলাকায় একটা হসপিটাল ছিল উপশম হসপিটাল। আমি নিজে নিজেই ওই হসপিটালে চলে যাই তো ওইখানে যাওয়ার পরে আমার চোখের ভয়াবহ অবস্থা দেখে উনারা কোন ট্রিটমেন্ট করতে পারে নাই। ওনারা তখন আমাকে একটা ড্রপ লিখে দিয়ে বলেছে ইমারজেন্সি চক্ষু হাসপাতালে যাইতে। আন্দোলনের কারণে কোন দিকেই যাওয়া সম্ভব ছিল না পরে আমাকে আমার স্ত্রী এবং একজন ভাগ্নি ছিল তারা আমাকে রিক্সা দিয়ে মধ্য বাড্ডা লায়ন্স হসপিটালে নিয়ে যায়। ওইখানে গিয়ে দেখি ওই হসপিটাল বন্ধ এদিক দিয়ে আমার চোখ দিয়ে রক্ত পড়তেছে চোখের অবস্থা অনেক খারাপ। তারপর মেরুল বাড্ডা বৌদ্ধ মন্দিরের পাশে একটা হসপিটাল আছে ওইটার ভিতরে নিয়ে গেল ওইটার ভিতর নিয়ে যাওয়ার পরে ওই হসপিটালের স্টাফেরা একজন চোখের ডাক্তার কে ফোন দিয়ে এনেছে ওই ডক্টরে এসে লাইট দিয়ে আমার চোখ পরীক্ষা করে। তখন দেখে আমার চোখে ভিতরে গুলি চলে গেছে এবং চোখের অবস্থা অনেক ভয়াবহ তো উনি আমার ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে আর লিখে দিয়েছে ইমার্জেন্সি চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য। সেদিন উনিশে জুলাই ছিল শুক্রবার তখন রাত সাড়ে দশটা কি ১১:০০ টা বাজে তখন রাস্তাঘাটের অবস্থা ভয়াবহ তখন আমাকে এই ভাবেই বেন্ডিস করে বাসায় রাখে। পরের দিন সকাল ভোরে অর্থাৎ ২০ শে জুলাই সকাল ছয়টার দিকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হসপিটাল আগারগাঁওয়ে চলে যাই। তখন ওইখানে আমার চোখের প্রথম অপারেশন হয় ওইখানে অপারেশন হওয়ার পরে উনারা আমাকে রিলিজ দিয়ে দেয় এবং আমি বাসায় চলে যাই। ডাক্তার লিখে দিয়েছে পরের দিন অর্থাৎ একুশে জুলাই হসপিটালে এসে ড্রেসিং করানোর জন্য এবং ব্যান্ডেজ খোলার জন্য তো এই পর্যন্ত আগারগাঁও চক্ষু বিজ্ঞান হসপিটাল আমার তিনটা অপারেশন হয়েছে। ডাক্তার বলেছে আমি আর আমার এই চোখ দিয়ে কোনদিন পৃথিবীর আলো দেখতে পারবো না এখন এইভাবে আছি অনেক কষ্টের দিন যাচ্ছে।
ছবি




