জুলাইয়ে
ঘটনাঃ
বিএনপি
করার সুবাদে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিগত ১৫ বছরে
আন্দোলন সংগ্রামে সর্বময় রাজপথে ছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির
ততকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যান,
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে জুলাই আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে কাজ
করার সুযোগ হয়েছে।
ভয়াবহ
জুলাইয়ের পূর্ব থেকেই বিএনপি রাজনীতি করার কারণে নিজবাসায়
থাকা হতো না। সেই
সাথে ফ্যাসিবাদের কার্যক্রমে দেশের উত্তাল পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌছানোর
পূর্বে, ১৬ জুলাই, ২০২৪ইং
তারিখে আন্দোলনে অংশগ্রহন কারী দের কিছু
খাবার ও পানীয় দেওয়ার
উদ্দেশ্যে আমি আমার নিজস্ব
ফান্ডের সাথে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীদের
ফান্ড একত্রিত করে ১৭জুলাই, ২০২৪ইং
আমি ও আমার কিছু
শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আমার কয়েকজন
কর্মী মিলে কিছু খাবারের
ব্যবস্থা করে ধানমণ্ডি, মীনা
বাজার ও বাংলাদেশ আই
হসপিটালের সামনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার ও
পানীয় বিতরণ করি এবং তাদের
সাথে অংশগ্রহণ করি।
১৮ই
জুলাই, ২০২৪ইং বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী আমি ও আমার
দলীয় নেতা-কর্মীদের এবং
শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন
স্পটে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে অংশগ্রহণ করি। সেদিন দুপুরের
পর আমি বেড়িবাঁধ ও
৪০ ফিট স্পষ্ট থেকে
ধানমন্ডি-২৭ নম্বরের মীনা
বাজারের স্পটে আসি। তখন ফ্যাসিস্ট
পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন
সংগঠনের পেটুয়া বাহিনী ছাত্র-জনতার অবস্থান রুখে দিতে সাউণ্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেটের সাথে লাইভ বুলেট
ব্যবহার করে, এতে ব্যাপক
উত্তেজনা ও বৈরী পরিস্থিতি
তৈরি হয়। এমতাবস্থায় কয়েকজন
আহত হয় যাদের মধ্যে
রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড
কলেজের ফারহান ফাইয়াজ ছিলো। তখন আমরা আহতদের
হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। সেই সাথে
ফ্যাসিবাদের আশীর্বাদপুষ্ট জানোয়ারদের হামলা রুখে দেয়ার সংগ্রাম
অব্যাহত রাখি এবং হালকা
আহত হওয়ার কারণে মাগরিবের পূর্বে স্থান ত্যাগ করি।
১৯শে
জুলাই, ২০২৪ইং যেহেতু বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত
তাই আমাদের অবস্থান ও চলাচল নিয়ে
সর্বদা কৌশল অবলম্বন করতে
হতো। এছাড়া পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ইত্যাদি সকলের সম্মান রক্ষার্থে, ফ্যাসিস্ট পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন
সংগঠনের পেটুয়া বাহিনীর আগ্রাসন (তখন আমার ক্ষতি
করার সর্বোচ্চ পায়তারা চলছিল) এবং আগের দিন
আহত হওয়ার কারণে সেদিন নির্দিষ্ট স্থানে থেকে কর্মী ও
শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা
করেছি।
রক্তাক্ত
২০শে জুলাই, ২০২৪ইং তারিখ আসরের নামাজের পর কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী
জানাল যে আমাকে ফ্যাসিস্ট
সরকারের পেটুয়া বাহিনী মেরে ফেলার স্বরযন্ত্র
পাকাপোক্ত করে ফেলেছে। এরপর
মাগরিবের নামাজ শেষে তাদের কথা
উপেক্ষা করে ২০-২২
জন সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে
নিয়ে বেড়ীবাঁধ চার রাস্তার মোড়ে
আন্দোলনে অবস্থান
কালে ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া বাহিনী দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হই।
এমতাবস্থায় সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকার লোকজন
ধরাধরি করে প্রাথমিক চিকিৎসার
জন্য একটা ফার্মেসিতে নিয়ে
যায়। সেখানকার অবস্থানরত ডাক্তার বলেন যে, গুলি
বড় হওয়ার কারণে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে
এবং সে প্রাথমিক চিকিৎসা
বাবদ রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার জন্য
ব্যান্ডেজ করে দেন। এরপর
কিভাবে হাসপাতালে যাবো, কোন হাসপাতালে যাবো
সেটা নিয়ে চিন্তা করতে
করতে এক সহযোগী বড়
ভাই ১টা রিকশা নিয়ে
আসেন। সেই রিকশা যোগে
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ধানমন্ডির বাংলাদেশ
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার
জন্য যাই। সেখানে আমি
যাওয়ার পূর্বেই আমার পরিবার, আত্মীয়
ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলো। ওখানে ডাক্তার আমাকে দেখে ইসিজি,এক্স-রে সহ আরো
কিছু টেস্ট করায়। এরপর বলে এই
বুলেট বের করা জরুরি
নয়, মানে সে অপারেশন
করতে চাচ্ছিলো না। তখন আমার
মামা সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকে অনেক অনুরোধের পর
জরুরী বিভাগে অপারেশনের জন্য নিয়ে যায়।
অপেক্ষমান থাকার কিছু সময় পর
একটা ছেলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়
আসে এবং 'চিৎকার করে
বলতে থাকে ভাই আমাকে
পেইন কিলার দেন আমার সহ্য
হচ্ছে না'; আমার পাশে
তাকে রাখা হয়, এতে
আমি দেখি তার পা
দুটি ঝুলছে। পরে জানতে পারি
পুলিশ তাকে গুলি করেছে
এবং কিছুক্ষণ পর হাসপাতালে অভিযান
চলবে তখন আর কালক্ষেপণ
না করে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে নির্দিষ্ট গোপন
স্থানে চলে যাই। এরপর
ব্যক্তিগত দুই চিকিৎসক ও
শুভাকাঙ্ক্ষীদের দ্বারা গোপনীয়তা বজায় রেখে চিকিৎসা
নেই (অপারেশনের আগপর্যন্ত) তারপর বিভিন্ন হাসপাতালে আমার পরিবার ও
শুভাকাঙ্ক্ষী দের মাধ্যমে খোঁজ
নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষা ও নিরাপত্তার সার্থে
ঢাকা রিয়েল স্টেট হাউজিংয়ে অবস্থিত মমতাজ
ট্রমা সেন্টারে অপারেশন করাই। এখানে চিকিৎসারত অবস্থায় পুনরায় অবস্থান পরিবর্তন করি। শেলাই কাটার
১দিন পূর্বে আমি যেখানে অবস্থান
করছি সেখানে অভিযান হওয়ার খবর পেয়ে সে
স্থান ত্যাগ করি, যার ফলে
আমার ক্ষতস্থান থেকে ব্যাপক রক্তক্ষরণ
হয়। এভাবে একস্থান থেকে অন্য স্থানে
স্থান পরিবর্তন করে চলমান আন্দোলনের
দিক নির্দেশনা সহযোদ্ধাদের দিয়ে সহযোগিতা করি।
এরই
ধারাবাহিকতায় ৫ই আগস্ট, ২০২৪ইং
ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন স্বাধীনতার
সূর্য উদিত হয়।
দেশের
জন্য জুলাই আন্দোলন করেছি। এই আন্দোলনে আহত
হওয়ার কারণে আমি আমার ব্যবসা
নষ্ট করে ফেলছি, নিজের
স্বাভাবিক অবস্থা হারিয়েছি শুধু দেশকে ভালো
রাখার জন্য। ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমাদের যেভাবে
মূল্যায়ন হওয়ার কথা ছিল সেটা
হয়নি। একদল জুলাই বিক্রি
করে আমাদের রক্তের দাগ ও ক্ষত
শুকানোর পূর্বেই ক্ষমতার মসনদে বসে টাকার পাহাড়
গড়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং নতুন দল
করে জুলাই শহীদ ও জুলাইয়ে
আহত যোদ্ধাদের সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যার দরুন আমরা
নিজেদের পরিচয়টা দিতেও অক্ষম হয়ে যাই।