জুলাই ভিকটিমস অ্যাসোসিয়েশনজুলাই ভিকটিমস অ্যাসোসিয়েশন

যোদ্ধার প্রোফাইল

মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ

মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ

ক্যাটাগরি
ক্যাটাগরি-শহিদ
নাম
মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
বয়স
25 বছর
পেশা
প্রযোজ্য নয়
এমআইএস নাম্বার
5716
গ্যাজেট নাম্বার
89
নিজ জেলা
ঢাকা
ঘটনাস্থল
উত্তরা, ঢাকা।

যোদ্ধার গল্প

শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ

মানবিকতা ও আত্মত্যাগের অনন্য প্রতীক-

মীর মাহফুজুর রহমান, যিনি সবার কাছে ‘মীর মুগ্ধ’ নামে পরিচিত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম স্মরণীয় শহীদ। ১৮ জুলাই ২০২৪ ঢাকার উত্তরার আজমপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি শহীদ হন। তাঁর শেষ মুহূর্তের মানবিক কর্মকাণ্ড তাঁকে জুলাইয়ের ইতিহাসে একটি অনন্য অবস্থান দিয়েছে।

মুগ্ধ জন্মগ্রহণ করেন ৯ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে ঢাকার উত্তরায়। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার ও তরুণ সংগঠক। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ২০২৩ সালে গণিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (BUP)-এ MBA-তে ভর্তি হন।

শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি ফ্রিল্যান্সিং করতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি খেলাধুলা ও বিভিন্ন সংগঠনীমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন।

আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা-

জুলাইয়ের আন্দোলন যখন দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে, মুগ্ধও এতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তবে তাঁর ভূমিকা ছিল কিছুটা ভিন্নধর্মী।

তিনি শুধু প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, আন্দোলনকারীদের প্রয়োজনের সময় তাঁদের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছিলেন।

১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচির দিনে ঢাকার উত্তরা ও আজমপুর এলাকায় সংঘর্ষ তীব্র হয়ে উঠলে মুগ্ধ সেখানে উপস্থিত হন। তিনি আন্দোলনরত ও আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করতে শুরু করেন।

তাঁর হাতে ছিল পানির বোতল ও বিস্কুটের বাক্স। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাঁকে আন্দোলনকারীদের পানি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে দেখা যায়। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সংঘর্ষের মধ্যে থাকা ক্লান্ত ও আহত মানুষদের সামান্য স্বস্তি দেওয়া।

১৮ জুলাই — মানবিকতার মাঝেই শাহাদাত-

১৮ জুলাই বিকেলে আজমপুর এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। চারদিকে সংঘর্ষ, আতঙ্ক ও গুলির শব্দের মধ্যেও মুগ্ধ মানুষের কাছে পানি পৌঁছে দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তাঁর কপালে আঘাত করে মাথার ডান পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাঁর মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ধারণ করা ভিডিওটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে যে তরুণকে মানুষের হাতে পানি তুলে দিতে দেখা যায়, কয়েক মিনিট পর সেই তরুণই হয়ে যান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন শহীদ।

মুগ্ধের উত্তরাধিকার-

মুগ্ধের গল্প জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে একটি বিশেষ বার্তা বহন করে। তিনি দেখিয়েছেন, একটি গণআন্দোলনে অবদান রাখার অর্থ শুধু স্লোগান দেওয়া বা মিছিলের সামনে থাকা নয়, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও একটি বড় দায়িত্ব।

একজন তরুণ যখন নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে তৃষ্ণার্ত ও আহত মানুষের কাছে পানি নিয়ে ছুটে যান, তখন তাঁর সেই মানবিক কাজও ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।

শহীদ মীর মুগ্ধ তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক।

ছবি

মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ